জন্ডিস কি, লক্ষণ, কেন হয় ও চিকিৎসা।
জন্ডিস সম্পর্কে আপনার জিজ্ঞাসাগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায় বলতে গেলে, জন্ডিস কোনো স্বাধীন রোগ নয়; এটি শরীরে অন্য কোনো সমস্যার সংকেত বা লক্ষণ।
নিচে জন্ডিসের আদ্যোপান্ত আলোচনা করা হলো:
## ১. জন্ডিস কী? (What is Jaundice)
আমাদের রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। কোনো কারণে রক্তে এই বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের চামড়া, চোখের সাদা অংশ এবং প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়। এই অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়।
রক্তে বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত 1.2 mg/dL এর নিচে থাকে। এটি 2.5 বা 3 ছাড়িয়ে গেলে জন্ডিস দৃশ্যমান হয়।
## ২. জন্ডিসের লক্ষণসমূহ
জন্ডিস হলে শরীরে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দেয়:
* হলুদ ভাব: চোখের সাদা অংশ প্রথমে হলুদ হয়, এরপর প্রস্রাব এবং গায়ের চামড়া হলুদ হতে থাকে।
* শারীরিক দুর্বলতা: প্রচণ্ড ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করা।
* খাবারে অরুচি: ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং খাবারের গন্ধ সহ্য করতে না পারা।
* বমি ভাব: প্রায়ই বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়া।
* পেটে ব্যথা: বিশেষ করে পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে (যেখানে লিভার থাকে) ব্যথা অনুভব করা।
* চুলকানি: শরীরের চামড়ায় তীব্র চুলকানি হতে পারে।
* জ্বর: ভাইরাল হেপাটাইটিস হলে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর থাকতে পারে।
## ৩. জন্ডিস কেন হয়?
জন্ডিসের কারণগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
* লিভারের আগে (Pre-hepatic): রক্তে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে গেলে বিলিরুবিন বেড়ে যায় (যেমন: ম্যালেরিয়া বা থ্যালাসেমিয়া)।
* লিভারের ভেতরে (Hepatic): লিভার যদি বিলিরুবিন প্রসেস করতে না পারে। প্রধান কারণ: হেপাটাইটিস ভাইরাস (A, B, C, D, E), অতিরিক্ত মদ্যপান বা লিভার সিরোসিস।
* লিভারের পরে (Post-hepatic): লিভার থেকে বিলিরুবিন বের হওয়ার পথে বাধা। যেমন: পিত্তথলিতে পাথর বা টিউমার।
## ৪. চিকিৎসা ও করণীয়
জন্ডিসের চিকিৎসা মূলত নির্ভর করে এটি কেন হয়েছে তার ওপর। তবে সাধারণ নিয়মগুলো হলো:
* পূর্ণ বিশ্রাম: জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর জন্য সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো বিশ্রাম। অন্তত ২-৩ সপ্তাহ ভারী কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে।
* খাদ্যাভ্যাস: গ্লুকোজের পানি, ডাবের পানি, আখের রস এবং সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার, ঘি, মাখন ও অতিরিক্ত তেল-মসলা একেবারেই খাওয়া যাবে না।
* পর্যাপ্ত পানি: শরীর থেকে টক্সিন বের করতে প্রচুর নিরাপদ পানি পান করতে হবে।
* ডাক্তারি পরীক্ষা: জন্ডিস ধরা পড়লে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা (যেমন: LFT, HBsAg, Anti-HAV) এবং প্রয়োজনে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে হবে।
> সতর্কবাণী: কোনো অবস্থাতেই কবিরাজি চিকিৎসা বা তথাকথিত "জন্ডিস নামানো" বা "মালা পড়া"র মতো অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সময় নষ্ট করবেন না। এতে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
Comments
Post a Comment