ছোট বাচ্চাদের ঠান্ডা দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি।

বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগলে তারা বেশ অস্বস্তিতে থাকে, আর বাবা-মা হিসেবে সেটা দেখা বেশ কষ্টের। তবে চিন্তার কিছু নেই, ঘরোয়া কিছু উপায়ে খুব সহজেই তাদের আরাম দেওয়া সম্ভব।

এখানে ছোট বাচ্চাদের ঠান্ডা দূর করার কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি দেওয়া হলো:

১. লিকুইড বা তরল খাবার বেশি দেওয়া

বাচ্চার বয়স যদি ৬ মাসের বেশি হয়, তবে তাকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস বা গরম স্যুপ খাওয়ান। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে এবং কফ পাতলা করতে সাহায্য করে। ৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

২. কুসুম গরম পানির ভাপ (Steam)

বাচ্চার নাক বন্ধ থাকলে গরম পানির ভাপ খুব কাজে দেয়। বাথরুমের গরম পানির কল ছেড়ে ঘরটি বাষ্পময় করে সেখানে বাচ্চাকে ১০-১৫ মিনিট নিয়ে বসে থাকতে পারেন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।

৩. মধুর ব্যবহার (১ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য)

বাচ্চার বয়স যদি ১ বছরের বেশি হয়, তবে রাতে ঘুমানোর আগে আধা চা-চামচ মধু খাওয়াতে পারেন। এটি কাশির সিরাপের মতোই কার্যকর। তবে মনে রাখবেন, ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু দেবেন না।

৪. সরিষার তেল মালিশ

হালকা গরম সরিষার তেলের সাথে রসুন কুচি ও কালোজিরা মিশিয়ে বাচ্চার বুকে, পিঠে এবং পায়ের তলায় মালিশ করলে শরীর গরম থাকে এবং কফ জমে থাকলে তা আলগা হয়ে যায়।

৫. স্যালাইন ড্রপ

নাক বেশি বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে পাওয়া যায় এমন নরমাল স্যালাইন ড্রপ (যেমন: Solas বা Nasosal) ব্যবহার করতে পারেন। এতে বাচ্চার বন্ধ নাক খুলে যাবে এবং সে আরামে ঘুমাতে পারবে।

৬. মাথা উঁচুতে রাখা

বাচ্চা যখন ঘুমাবে, তখন মাথার নিচে একটি নরম বালিশ দিয়ে মাথাটি সামান্য উঁচুতে রাখুন। এতে নাকের সর্দি গলার দিকে নামবে না এবং শ্বাস নিতে কষ্ট কম হবে।

> সতর্কতা:

> * যদি বাচ্চার ১০০.৪°F (৩৮°C) এর বেশি জ্বর থাকে।

> * শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয় বা বুক দেবে যায়।

> * বাচ্চার বয়স ৩ মাসের কম হয়।

> এইসব ক্ষেত্রে ঘরোয়া টোটকার অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Comments

Popular posts from this blog

শ্বাসকষ্ট কি কেন হয় এবং এর প্রতিকার।

রূপ লাবণ্য ধরে রাখতে কিছু খাদ্যের তালিকা।

জন্ডিস কি, লক্ষণ, কেন হয় ও চিকিৎসা।